শায়লা একটি বেসরকারী কোম্পানিতে চাকরি করে। আচার-আচরণে কিছুটা উগ্র। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে দুর্বব্যবহার করে। স্বামীর সাথে প্রায়ই ঝগড়া হয়। চাকচিক্যময় আড়ম্বর জীবনযাপনেই তার স্বাচ্ছন্দ্য। এসব দেখে তার ছোট বোন নুসরাত বলে- "আপু তোমার উচিত হযরত ফাতিমা (রা.) এর জীবনী পাঠ করা। তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠা, ধৈর্য, দানশীলতা, লজ্জাশীলতা, পতিভক্তি, আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা প্রভৃতি মহৎগুণের অধিকারিণী।
শায়লা ও নুসরাত হযরত ফাতিমা (রা.)-এর অনাড়ম্বর জীবন থেকে নিচের দিকগুলো শিক্ষা গ্রহণ করবে-
১. হযরত ফাতিমা (রা.) আজীবন সত্যের প্রতি অবিচল ছিলেন। শায়লা ও নুসরাত হযরত ফাতিমা (রা.)-এর জীবন থেকে সত্যনিষ্ঠ হওয়ার শিক্ষালাভ করবে।
২. হযরত ফাতিমা (রা.) দারিদ্র্যপীড়িত জীবনে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করেও কখনো ধৈর্যহারা হননি। অতএব শায়লা ও নুসরাত ধৈর্যশীল হবে।
৩. ফাতিমা (রা.) দানশীলতার গুণে তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছেন। অতএব শায়লা ও নুসরাত দানশীলতার শিক্ষা গ্রহণ করবে।
৪. লজ্জা ইমানের অন্যতম শাখা। লজ্জাশীলতায় তিনি ছিলেন অনন্যা। অতএব, শায়লা ও নুসরাত লজ্জাশীলতার শিক্ষা গ্রহণ করবে।
৫. ফাতিমা (রা.) স্বামীকে প্রাণাধিক ভালোবাসতেন। তাই তিনি পতিভিক্ত নারীর দৃষ্টান্তে অমর। অতএব শায়লা ও নুসরাত তাদের জীবনে এ দিকটি গ্রহণের শিক্ষা নেবে।
৬. সর্বোপরি হযরত ফাতিমা (রা.) একজন মুত্তাকি, পরহেযগার নারী ছিলেন। শত অভাবের মাঝে আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীল হয়ে তার পক্ষ থেকে সমাধানের আশায় দিনের পর দিন অনাহারে কাটাতেন। অতএব শায়লা ও নুসরাত আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীল হবে।
অতএব বলা যায়, শায়লা ও নুসরাত হযরত ফাতিমা (রা.)-এর অনাড়ম্বর জীবন থেকে সত্যনিষ্ঠা, ধৈর্য, দানশীলতা, লজ্জাশীলতা, পতিভক্তি, আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা প্রভৃতি মহৎ গুণের অনুসরণ করার শিক্ষা গ্রহণ করবে।
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অনুসরণ করলেই মানুষ সেরা হতে পারে। যে জীবন অনুসরণ ও অনুকরণ করলে মানুষের জীবন সুন্দর ও সফল হয়, তাকে আদর্শ জীবন বলে। আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে যেসব নবি ও রাসুল প্রেরণ করেছেন, তাঁদের জীবনই আমাদের জন্য আদর্শ। এমনিভাবে যেসব মনীষী, নবি ও রাসুলগণের পথ অনুসরণ করেছেন তাঁরাও আদর্শ মানুষ। তাঁদের জীবনের ভালো দিকগুলো আমাদের আদর্শ।
এ অধ্যায় শেষে আমরা -
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?